অবস্থান: চট্টগ্রাম জেলার অর্ন্তগত পটিয়া উপজেলার আয়তন ৩১৬.৪৭ বর্গ কিমি। উত্তরে চান্দঁগাও থানা ও বোয়ালখালী উপজেলা, দক্ষিণে চন্দনাইশ ও আনোয়ারা উপজেলা, পূর্বে রাঙ্গুনিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা এবং পশ্চিমে কোতোয়ালী, ডবলমুরিং ও বন্দর (চট্টগ্রাম) থানা। প্রধান নদী কর্ণফুলী। নবনির্মিত কর্নফুলী ৩য় ব্রিজ চট্টগ্রাম নগর ও পটিয়া উপজেলার সংযোগ সেতু। এই উপজেলার উপর দিয়ে গেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক।
ইতিহাস:ব্রিটিশ শাসনামলে
১৮৪৫ সালে পটিয়ায় একটি থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৪ সালে এটিকে
উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ১৯৩০ এর দশকে এখানে ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী,
বিশেষতঃ যুগান্তর দল ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন অভিযানের সাথে জড়িত বিপ্লবীরা এখানে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে কালারপোল সংঘর্ষে বিপ্লবী স্বদেশ রায় ইংরেজ সেনাদের গুলিতে নিহত হন। ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে গৈড়লা গ্রামে বিপ্লবী দলের অধিনায়ক সূর্যসেন ও ব্রজেন্দ্রসেন
ইংরেজ সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর দুটি বোমারু বিমান
পটিয়া সদরে কয়েকদফা বোমা হামলা চালিয়ে অনেক বেসামরিক লোককে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের ৩মে মুজাফফরাবাদ গ্রামে পাকবাহিনী ও রাজাকার-আলবদর সদস্যরা
অসংখ্য ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেয় এবং নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ১৯২৯ সালে
পটিয়া উপজেলার রশিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট গীতিকার,
সুরকার ও শিল্পী আবদুল গফুর হালী।
তাঁর লেখা অসংখ্য আঞ্চলিক ও মাইজভান্ডারী গান সারা বাংলাদেশে জনপ্রিয়।
আবদুল গফুর হালীকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘মেঠো পথের
গান’।
বৌদ্ধ তীর্থ চক্রশালা মন্দির - পটিয়া সদর থেকে প্রায় দুই
কিলোমিটার পূর্বে এর অবস্থান। বৌদ্ধ যুগে চট্টগ্রামের আদি নাম ছিল চট্টলা।
তবে এটি চক্রশালা নামেই পরিচিত । পূর্বে এই স্থানে শুধু একটি মন্দির
ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। সেই মন্দির এর গায়ে পাথরে খোদাই করে লিখা আছে
"ফরাতারা স্থুপ-নবতর সংস্কার - ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ । এই স্থানে তথাগত বুদ্ধ রেঙ্গুন থেকে আসার পথে অবকাশ যাপন করেন এবং তিনি চংক্রমণ করেছিলেন বলেই এই স্থান টিকে চক্রশালা নামে অভিহিত করা হয়। [২]
ঠেগরপুনি বুড়াগোঁসাই মন্দির - পটিয়া উপজেলা সদর থেকে ৪ কি.মি. দক্ষিণে ঠেগরপুনি গ্রামে এর অবস্থান। এই স্থানটি আরাকান রাজ্যের আরাকান পর্বতমালা
অংশ ছিল। আনুমানিক ৩৫০-৪০০ বছর পূর্বে ছান্দামা রাজার আমলে এই স্থানে একটি
দীঘি ছিল , এটি ছান্দামা দীঘি নামে পরিচিত ছিল। কালক্রমে উক্ত রাজবংশ
বিলুপ্ত হয় এবং ধীরে ধীরে তা পরিত্যক্ত বনে পরিণত হয়। উক্ত বনের মাটির
নীচে চাপা পড়ে প্রাচীন বুদ্ধমুর্তিটি। পরে সেই মুর্তিটি মাটির নীচ থেকে
উধ্বার করে সেই জায়গাতেই মন্দির নির্মাণ করা হয়। [২]
মুসা খাঁ মসজিদ - ১৬৫৮ খ্রিঃ, ১০৬৬ হিজরী সনে শাবান মাসে আজিজ খাঁ মাওলানা হুলাইন গ্রামে এ মসজিদ নির্মাণ করেন। ইহা প্রাচীণ ঐতিহ্যমন্ডিত একটি দর্শনীয় স্থান।
বুড়া কালী মন্দির - ধলঘাট গ্রামে তৎকালীন জমিদার রাজা রাম দত্ত এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মহিরা ক্ষেত্রপাল - চৈত্র সংক্রান্তির সময় এখানে মেলা বসে। দুই’শ বছর পূর্বে এটি প্রতিষ্ঠিত।
ধলঘাট প্রীতিলতা ওয়াদ্ধাদার ট্রাস্ট - বীরকন্যা প্রীতিলতা
ওয়াদ্ধাদার পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশ বিরোধী
আন্দোলনে বীবত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ গ্রহণ করে আত্মউৎসর্গ করেন। ধলঘাটে
প্রীতিলতার স্মৃতি মন্ডিত বাসস্থান ও তাঁর আবক্ষমুর্তি অন্যতম দর্শণীয়
স্থান ।
কৃতী ব্যক্তিত্ব :
আবদুর রহমান (১৯০২-১৯৭৭) - জন্ম. পটিয়া গ্রাম, শিক্ষাবিদ ও লেখক।
Post a Comment
খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত প্রদান করুন