0
পটিয়ায় জায়গা জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলায় উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন আনসার ভিডিপি দল নেত্রী শিখা নাথ (৩৫) সহ একই পরিবারের ৪ জন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপর ৩ জন আহতরা হলেন  শিখা নাথের পূত্র সঞ্জয় নাথ (১৪), রঞ্জয় নাথ (১০), দেবর তাপস নাথ (৩০), ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার রাত ১০টায় উপজেলার নাথ পাড়ার সাতকুড়ী মাষ্টারের বাড়ীতে।
এঘটনায় আহত শিখা নাথের স্বামী তপন নাথ বাদী হয়ে বিধান নাথ, সুশীল নাথ, অভি নাথ, দিলীপ নাথ, রাম প্রাসাদ নাথ এর বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় অভিযোগ নং ৮৩৯/১৪ দায়ের করেছে। থানার দায়ের কৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বে তপন নাথের সাথে বিধান নাথ গংএর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বাড়ীর জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ সংক্রান্ত বিষয়ে গত রবিবার রাত ১০টায় বাড়ীর পাশে দোকানে শিখা নাথের সাথে বিধান নাথের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে উপরোক্ত বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড, লাঠি সোটা দিয়ে শিখা নাথকে এলোপাতারী পিঠিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তার তপন নাথ তার তাকে বাচানোর জন্য এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তার উপরও হামলা চালায়। বর্তমানে গুরুতর  আহত শিখা নাথ পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। এঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাপস নাথ জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাদেরকে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে। এব্যাপারে আহত পরিবার স্থানীয় এমপি সহ থানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
ভুমি অফিসের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের খপ্পরে পড়ে প্রতিদিন এলাকার লোকজন কোন না কোনভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে পটিয়া ভুমি অফিসে তুগলকি কান্ড, কারবার চলছে। অভিযোগ ওঠেছে, মোটা অংকের টাকা নিয়ে নামজারী খতিয়ান বাতিল, খতিয়ান সৃজন, মিছ মামলা খারিজ, সার্ভেয়ার রির্পোট, অফিসের নথিতে কাগজপত্র গায়েব ও ভুমির খাজনা দিতে গিয়ে প্রতিদিন শত শত লোক নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। উপজেলার ২২ ইউনিয়নের ৬টি তহসিল অফিসে দীর্ঘদিন অনিয়ম,দূর্নীতি, হয়রানি চলে আসলেও অদৃশ্য কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অতি সম্প্রতি ভুমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ চট্টগ্রামের কয়েকটি ভুমি অফিসে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে কর্মকর্তাকে চাকুরীচ্যুত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ভুমি অফিসে কম্পন শুরু হয়। কিন্তু পটিয়া ভুমি অফিসে এখনো থেমে থাকেনি অনিয়ম,দূর্নীতি ও জনভোগান্তি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২২ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ভুমি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পটিয়া ভুমি অফিস পরিচালনা করেন। তার মধ্যে সদর তপসিল অফিস ছাড়াও ফকিরনিহাট, খরনা, চাপড়া, ধলঘাট, বুধপুরা বাজারে তহসিল অফিস রয়েছে। এসব তহসিল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে এতদিন নানা অনিয়ম হয়ে আসছিল। অভিযোগ ওঠেছে, স্থানীয় তহসিল অফিসের সার্ভেয়ার রির্পোট পাওয়ার পরও পটিয়া ভুমি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী মোটা অংকের টাকা নিতে মিছ মামলার ফাইল গায়েবসহ জনগণকে হয়রানি করতে নানা তালবাহানা করে থাকেন। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে পটিয়া শিকলবাহা মৌজায়। ওই এলাকার মরহুম ছৈয়দ আহমদের পুত্র হাজী মোহাম্মদ ইছহাকের ৩০ শতক জায়গা ওমড়া মিয়ার পুত্র এরশাদ আহমদ গোপনে ১৮০৮ নামজারী খতিয়ান সৃজন করেন। বিষয়টি মোহাম্মদ ইছহাক জানতে পেরে পটিয়া সহকারী কমিশনার ভুমি যতন মার্মার নিকট একটি মিছ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৬৩/১৩ইং। মামলাটি দীর্ঘদিন পটিয়া সহকারী কমিশনার ভুমির আদালতে বিচারাধীন ছিল। প্রতিপক্ষ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলার বাদীর অগোচরে খারিজ করেন। বাদীকে না জানিয়ে মামলা খারিজের বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়লে ভুমি অফিসসহ আশপাশের এলাকার লোকজনের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠেছে, সহকারী কমিশনার ভুমি সম্প্রতি পটিয়া ভুমি অফিস থেকে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। তিনি চলে যাওয়ার আগেই কৌশলে মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলা খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত ১৯ মার্চ ভুমি অফিসের কানুনগোকে মৌখিকভাবে জানানোর পর নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার ভুমি একেএম সালাউদ্দিন বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি পুনরায় শুনানীর জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য্য করেন। এ ব্যাপারে হয়রানির শিকার পৌর সদরের ওসমান হায়দার, ব্যাংকের কর্মচারী বিল্লাল হোসেন, হাবিবুর পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা ইনু মিয়া, সুচক্রদন্ডীর মোহাম্মদ সেলিমসহ অসংখ্য ভোক্তভোগী প্রতিদিনেই দৌড়াদৌড়ি করছে। ইতোমধ্যে তারা জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে অভিযোগও করেছেন। এলাকাবাসী ভুমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Post a Comment

খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত প্রদান করুন

 
Top