চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার এয়াকুবদন্ডী এলাকা থেকে আশরাফুল আলম অপু(১৬) এর গলিত লাশ নিখোঁজের ৭দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। আশরাফুল আলম অপু পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের নয়ারহাট এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে। রবিবার গভীর রাতে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পারিবারিক সুত্রে জানা যায় অপু পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়–য়া ছাত্র, গত ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে অপু একটি মেহেদি অনুষ্ঠানে যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তারপর তার আর কোন খোঁজ মিলছিল না। এর মধ্যে তার মা পারভিন আক্তারের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করে অপুকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মুক্তির জন্য এক কোটি টাকা দাবি করে অজ্ঞাত লোকজন। ২৫ জানুয়ারি এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি জিডি করেন অপু’র বাবা। গত ২৫ জানুয়ারি জিডি দায়ের এর পরই অপু’র দু’বন্ধুকে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা কিছু তথ্য দিয়েছে শীঘ্রই খুনের রহস্য উদঘাটনের আশা করছেন ওসি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, সন্ত্রাসীরা এক কোটি টাক মুক্তিপণের দাবিতে তাকে অপহরণ করেছিল। মুক্তিপণ না দেয়ায় তাকে খুন করেছিল। নিহতের বন্ধু মহল সূত্রে জানা যায় পড়ালেখা ছেড়ে আশরাফুল আলম অপু সম্প্রতি বখাটে, মাদকসেবীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেন। এতে বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তবে পটিয়া থানা সুত্রে জানা যায় লাশ উদ্ধারের পর তারা পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, অষ্টম শ্রেণীতে পরপর দু’বছর ফেল করায় অপু নবম শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারেনি এবং এরপর এক বছর ধরে সে স্কুলেও যায়নি। বর্তমানে সে স্কুলের অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে ছিল। রোববার দুপুরে টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট একটি স্থানে যায় অপুর পরিবারের লোকজন। কিন্তু টাকা নিতে সেখানে কেউ আসেনি। এরপর রাতে অপু’র মায়ের মোবাইলে এবং পটিয়া থানার ওসিকে টেলিফোনে অপু’র লাশ এয়াকুবদন্ডী এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মের পেছনে বালির ¯তূপের নিচে রাখা আছে বলে জানানো হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে লাশটি পাওয়া যায়। পুলিশ মনে করছেন ৪-৫ দিন আগেই খুন করা হয়েছে তাই লাশটি পোকায় খাওয়া গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিভাবে খুন করেছে লাশের শরীর দেখে সেটিও বুঝা যাচ্ছেনা। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

Post a Comment
খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত প্রদান করুন