0
বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। মুদ্রা জাল করা, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের একটি অংশ।
এমন তথ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরো কঠোর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে মূলত আশির দশক থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক ব্যবসাসহ নানা রকম কাজের খোঁজে আসতে শুরু করে বাংলাদেশে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের আগমনের সংখ্যা যেমন বেশি, সেই সঙ্গে বেড়েছে অপরাধ প্রবনতাও। গত ছয়মাসে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে র‌্যাব পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ১শ’ ৯২ জন বিদেশি নাগরিক। যাদের বেশিরভাগই আফ্রিকান।
এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জাল ডলার বা জাল রুপি, এই ব্যবসাটাতেই তারা বেশি জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, কিছু সংখ্যক মাদকের সঙ্গে এবং অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।’
র‌্যাব-এর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এসব বিদেশি নাগরিকেরা ওষুধ কেনার নাম করে বিভিন্ন ওষুধের আড়ালে তারা মাদক পাচার করছে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরো জানান, বিদেশিদের অনেকেই টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশের আসেন। এছাড়া আফ্রিকার অনেক দেশের নাগরিক প্রবেশ করেন পোর্ট এন্ট্রি ভিসা নিয়ে। এদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ভাষা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার ধরা পড়ার পর একটি নাম বলছে। পরের বার আরেকটি নাম বলছে, ছবি থেকে যাচ্ছে।আগের নামটি সঠিক কিনা পরের নামটি সঠিক, না কি কোনো নামই সঠিক না, এটা আমাদের জানাও কিন্তু অনেক কঠিন হয়ে পরে। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীই হোক, আর যেভাবেই হোক তাকে ফেরত পাঠাতে হলে হয় ওই দেশের একটি ডকুমেন্ট থাকতে হবে, যাতে প্রমাণ হয় সে ওই দেশের নাগরিক। অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের যে, দূতাবাস বা হাই কমিশন থাকে, তারা যদি সনাক্ত করে যে, তাদের দেশের নাগরিক, তাহলে ওই দেশে ফেরত পাঠানো যায়, না হলে ফেরত পাঠানোরও সুযোগ নাই।’
বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে বাড়িভাড়া দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান র‌্যাব পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Post a Comment

খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত প্রদান করুন

 
Top